বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
কিশোরগজ্ঞের এক শহীদ পরিবারের আকুতি
৪৬ বছর গেলো, কেউ খবর রাখে না
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
Published : Tuesday, 12 September, 2017 at 10:54 AM
৪৬ বছর গেলো, কেউ খবর রাখে না
হুনছি যুদ্ধে যাদের জীবন গেছে তাদের সরকার অনেক সাহায্য করতাছে। ৪৬ বছর চলে গেলো, আমরার খবরও রাহে না। কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলেন সদর উপজেলার কর্শাকাড়িয়াইল ইউনিয়নের কানকাটি গ্রামের শহীদ জয়চন্দ্র নন্দীর স্ত্রী অমূল্য বালা নন্দী।
প্রতিবছর ১১ সেপ্টেম্বর কানকাটি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করেন শহীদ পরিবারের লোকজন। সকালে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদ স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জে কানকাটি গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও শহীদ স্বজনদের উদ্যোগে কানকাটি গ্রামে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্শাকাড়িয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আলোচনায় অংশ নেন শহীদ স্বজন সুধীর চন্দ্র সরকার, প্রভাষক সামিউল হক মোল্লা, কৃষক লীগ নেতা চানমিয়া প্রমুখ।
১৯৭১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার কর্শাকাড়িয়াইল ইউনিয়নের কানকাটি গ্রামে একই পরিবারের ছয়জনসহ মোট সাতজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা। সেদিন মুক্তিকামী সুরেশ চন্দ্র সরকার, তার দুই ভাই জ্ঞান চন্দ্র নন্দী ও জয় চন্দ্র নন্দী, ভাতিজা মধুসূদন নন্দী, দুই নাতি হর্ষবর্ধন সরকার ও বিশ্ব বর্ধন সরকারকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ধূলদিয়া রেল সেতুর কাছে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। একই সঙ্গে হত্যা করে কানকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বারকে। জয় চন্দ্র নন্দীর স্ত্রী অমূল্য বালা নন্দীর প্রথম সন্তান জন্ম হওয়ার কয়েকদিন পরেই রাজাকার আলবদর ও পাকহানাদর বাহিনীর হাতে নিহত হয় তার স্বামী জয় চন্দ্র নন্দী। সেই থেকে খেয়ে না খেয়ে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে একমাত্র ছেলে সুনীল চন্দ্রকে বড় করেছেন। বর্তমানে ছেলে ছোটখাটো ব্যবসা করে। দুজনের কোনো মতে সংসার চলে। অন্যদিকে অমূল্য বালা নন্দীর দেবর জ্ঞানচন্দ্র নন্দীর স্ত্রী প্রফুল্ল বালার কোনো সন্তান নেই। প্রফুল্ল বালা নন্দী কান্নার সুরে বলেন, না পেলাম স্বামীর সোহাগ, না পেলাম সন্তান, এভাবেই জীবনটা কাটিয়ে দিলাম। আর পারতেছি না। এলাকার  চেয়ারম্যান, মেম্বার কেউ কোনো খবর নেয় না। এই পরিবারের অভিযোগ- স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও এই গণহত্যার বিচার হয়নি। এমনকি এই পরিবারের কেউ কোনোদিন খবর রাখেনি। সরকার ইতোমধ্যে অনেক বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ অসহায়দের অনেক সাহায্য-সহযোগিতা করেছে এবং করছে। কিন্তু এই পরিবারের দুজন মহিলা ষাটোর্ধ্ব বয়স, তাদের কোনো বয়স্কভাতা এমনকি বিধবা ভাতাও দেওয়া হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত এই পরিবারটি আজ অসহায় দিন যাপন করছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়টি আমরা জানতাম না। আগামীতে এদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বয়স্ক ও বিধবাভাতার কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();