বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ‘খেলা’য় বাংলাদেশের ভূমিকা কী
মনজুরুল হক
Published : Saturday, 9 September, 2017 at 11:26 AM
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ‘খেলা’য় বাংলাদেশের ভূমিকা কী
এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যতগুলো রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ-বিগ্রহ, কূটনৈতিক জটিলতা আছে তা কোনো না কোনোভাবে বোধগম্য হয়, গড় চিন্তার মানুষ ধরতে না পারলেও বিচক্ষণরা ঠিকঠাক ধরতে পারে, কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যা এমনই এক সমস্যা যার কোনো কূল-কিনারা করা এখন পর্যন্ত অসম্ভব! ২০০৭-৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো পষ্ট রেখাচিত্র তৈরি করা যায়নি। এখন পর্যন্ত এ সমস্যা কীভাবে মোকাবেলা করা হবে সেই গাইডলাইন তৈরি করা যায়নি। বলা ভালো, বাংলাদেশ সরকার করতে পারেনি। মোটা দাগে রোহিঙ্গার সমস্যার প্রধান দিক বাংরাদেশে বানের জলের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ করেছে, করছে।
যখন থেকে রোহিঙ্গারা মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছে তখন থেকেই রোহিঙ্গা সমস্যায় জেরবার দেশটির নাম বাংলাদেশ। এই যে এদের নিয়ে এত সমস্যা, হাজারা হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বোঝা, ভৌগোলিক অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ অঞ্চলে। স্থায়ী এবং অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবাধে মাদক কেনা-বেচা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি। তারপরও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান কী করে হবে তার কোনো দিকনির্দেশনা ঠিক করতে পারেনি। বাকি টেকনিক্যাল বিষয়াদি তো পরের কথা।
রোহিঙ্গা কারা? তাদের আদি নিবাস কোথায়? কেন তাদের নিজভূমি থেকে বিতাড়ন করা হচ্ছে? এ প্রশ্নগুলো মোটেও সহজ-সরল কিংবা সোজাসাপ্টা নয়। তাই এর উত্তরও সহজে মিলবে না। মিলছে না। মোটা দাগে মিয়ানমার সরকার (বিশেষ করে সেনা শাসকরা) বলছে রোহিঙ্গারা বাংলাভাষী বাংলাদেশি নাগরিক। ৮ শতকের পর বাংলাদেশ থেকে আরাকান রাজ্যে বসবাসের গোড়াপত্তন করে। সেই থেকে তারা মিয়ানমারের নাগরিক হয়েই বসবাস করে আসছিল। তারা আলাদা আরাকানি রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করছে। আইএস-এর সহযোগী হয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এ রকম আরো অনেক অভিযোগের পরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করতে শুরু করেছে। ২০০৮-৯ সালে এবং ইদানীং- সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সংখ্যাটিও অদ্ভুত রকম বৈশিষ্ট্যময়! প্রথমে যে ৫ লাখ এসেছিল তাদের প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে গেছে! বাংলাদেশ সরকার গণনা করে পায় মাত্র হাজার ত্রিশেক! তাহলে বাকি রোহিঙ্গারা কোথায় গেলো সে হিসাবও বাংলাদেশের কাছে নেই। মোদ্দা কথা, এত বড় একটা আন্তর্জাতিক সংকট মাথার ওপর ঝুলে থাকার পরও সরকারের কানে সেভাবে পানি ঢোকেনি। সরকার প্রথমে কঠোর অবস্থান নিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে আন্তর্জাতিক চাপে সীমান্ত প্রহরা শিথিল করেছে। যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পেরেছে তারা তো বেঁচে গেলো, কিন্তু যারা পারেনি তাদের কী পরিণতি?
রোহিঙ্গা বিষয়ক ইউরোপীয় সংস্থা জানায়, গত কয়েক দিনে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সৈন্যদের আক্রমনে প্রায় তিন হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে এ সংস্থা জানতে পেরেছে, ইতোমধ্যে সৈন্যদের হামলায় ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রায় ২ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশ সীমান্তে আটকা পড়ে আছে। মিয়ানমারের সৈন্যরা বেসামরিক নাগরিকদের হামলায় যেমন হেলিকপ্টার ও ভারি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে, তেমনই রকেট দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে।
ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রীয় সংস্থা রাষ্ট্র উপদেষ্টা অং সান সু চির অফিসের অবস্থান তুলে ধরে জানায়, উপদেষ্টার অফিস ‘আরাকান মুক্তিফৌজ’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী এ সংস্থা দেশের বাইরে তাদের ভাষায় এ সংগঠনের সহায়তাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করার জন্য ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানায়।
সরকারের এ অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আরাকান মুক্তিফৌজ জানায়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার চর্চাকে ইয়াঙ্গুন সরকার সন্ত্রাসবাদের তকমা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আরাকান ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের প্রধান নুরুল ইসলাম ওমর সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, বিতাড়ন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, নাগরিকদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও ন্যূনতম অধিকার না দেওয়ার কারণে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেন। এরই মধ্যে আরাকান স্যালভেশন আর্মিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সু চি প্রশাসন।
আরেকটি সূত্র জানায় “আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। গত শুক্রবার মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ৮৯ জন নিহত হয়েছেন। দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এ হামলার দায় স্বীকার করে আরো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী ও দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।
আর এর পরপরই মিয়ানমার সেনাবাহিনী ‘ক্লিনজিং’ শুরু করেছে। সেনাদের নিপীড়নে প্রতিদিনই হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
রাখাইনে হামলার মাত্র একদিন আগেই সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানায় রাখাইন রাজ্যের জন্য বিশেষভাবে গঠিত ‘অ্যাডভাইজরি কমিশন’। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে কমিশন প্রতিবেদনে আরো জানায়, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান না দেখালে রোহিঙ্গা এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী কট্টরপন্থার দিকে ধাবিত হতে পারে।
রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি উলেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা থাকলেও তা অলিখিত। মায়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, বুথিডাং, মংডু, কিয়কতাও, মাম্ব্রা, পাত্তরকিল্লা, কাইউকপাইউ, পুন্যাগুন ও পাউকতাউ এলাকায় এদের নিরঙ্কুশ বাস। এছাড়া মিনবিয়া, মাইবন ও আন এলাকায় মিশ্রভাবে বসবাস করে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৮,০০,০০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে বসবাস করে। মিয়ানমার ছাড়াও ৫ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এবং প্রায় ৫ লাখ সৌদি আরবে বাস করে বলে ধারণা করা হয়। যারা বিভিন্ন সময় বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ও রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার দুটি দিক আছে। একটি মানবিক, অপরটি জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট। রোহিঙ্গারা যে নিজ দেশে জাতিগত নিপীড়নের শিকার, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে, বিতাড়িত করেনি। কিন্তু শরণার্থীদের কারণে যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে থাকে, কিংবা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, সেটি মেনে নেওয়া যায় না।
বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত হলে- ‘শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির এনএলডি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আশা করা গিয়েছিল যে সেখানকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। কফি আনান কমিশনের রিপোর্টও তারা আমলে নিচ্ছে না। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে বিশ্বসম্প্রদায়েরও দায় আছে। তাদের কর্তব্য হবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে দেশটির সরকার জাতিগত নিপীড়ন বন্ধ করে এবং বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকেও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে এটি শান্তির পথ নয়।” (১৭ জুন ২০১৭, প্রথম আলো)।
কয়েক দশক ধরে চলা রোহিঙ্গা নির্যাতনের পর এবার মিলছে প্রতিরোধের আভাস। শুধু পালিয়ে বেড়ানো নয়, অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়াচ্ছেন রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারে গত বছরের অক্টোবরে নয় পুলিশ হত্যার অভিযোগ ওঠে এক রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। তারপর থেকে সে দেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর আবারো দমনপীড়ন শুরু হয়। ফলে সত্তর হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা যেসব ক্যাম্পে বসবাস করেন সেগুলোর একটি এ কুতুপালং।
কুতুপালং ক্যাম্পের শরণার্থীরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপদ আছে বটে, তবে জীবন সেখানে মোটেই সহজ নয়। সেখানে সত্যিকারের কোনো অবকাঠামো নেই, সবই শরণার্থীদের গড়া অস্থায়ী আবাস। তারা নিজেদের দেশ ছেড়ে এসেছেন, কেননা, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং অসংখ্য মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে এ তথ্য।
বাংলাদেশেও বৈষম্যে শিকার হচ্ছেন রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পে আর জায়গা নেই- বলে বাংলাদেশে জলপথে আশ্রয় নিতে আসা অসংখ্য রোহিঙ্গাকে তাদের নৌকাসহ ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে সীমান্তরক্ষীরা। পাশাপাশি কক্সবাজার ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের একটি দুর্গম দ্বীপে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দ্বীপটি বর্ষাকালে অধিকাংশ সময় পানির নিচে তলিয়ে যায়।
নিরাপদ আবাসভূমি না থাকায় রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, মিয়ানমার তাদের অতীত মুছে ফেলতে কাজ করছে। দেশটির সংস্কৃতি এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিহাসবিষয়ক পাঠ্যবই প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে যেখানে রোহিঙ্গাদের কথা একেবারেই উল্লেখ থাকবে না। গত ডিসেম্বরে মন্ত্রণালয়টি দাবি করেছে, মিয়ানমারের ইতিহাসে কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে কখনো রোহিঙ্গা নামে আখ্যায়িত করা হয়নি।
একদিকে এ পরিস্থিতি, অন্য দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং সরাসরি অং সান সু চিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পর সু চি একশ’ আশি ডিগ্রি ঘুরে বক্তব্য দিয়েছেন- ‘বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবারের ফোনালাপে সু চি দাবি করেন রাখাইনে সবাই নিরাপদ। দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে আজ সু চির দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ানকে সু চি বলেছেন, তার সরকার ইতোমধ্যে যথাসাধ্য উপায়ে রাখাইনের সব মানুষকে সুরক্ষা দিতে শুরু করেছে।’ (০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, প্রথম আলো)।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন পীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সীমান্ত খুলে দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। এ জন্যে বাংলাদেশের সমর্থন পেতে ইউএনএইচসিআর দেশটির সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।  
বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে সাহায্য করায় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। তবে পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য সহায়তার সুযোগ পেলেও মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে আটকে থাকা অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে। আগামী দিনগুলোতে সেসব মানুষদের সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়। (পরিবর্তন, অগাস্ট ২৯, ২০১৭)।
এ ঘোট পাকানো অবস্থায় কেবল বাংলাদেশ মিয়ানমার নয়, এখানে আরো অনেকেই ছিপ ফেলেছে রাঘব-বোয়াল ধরবে বলে! সারা বিশ্ব জানে মিয়ানমার খনিজ সম্পদের অফুরন্ত সম্ভারের দেশ। সেখানে জিও স্ট্যাটিজিক্যালি প্রায় প্রতিটি পরাশক্তির স্বার্থের বিষয় জড়িত। ঠিক এ মুহূর্তে মিয়ানমার প্রায় পুরোপুরি চীনের ছত্রছায়ায় চীনের প্রত্যক্ষ খবরদারিতে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি-অর্থনীতি সবই নিয়ন্ত্রণ করে চীন। সেই সুবাদে মিয়ানমার জান্তার এত বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটার পরও চীন এবং চীনের অকৃত্রিম বন্ধু পাকিস্তান সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ইসরায়েলের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মিয়ানমার সফরে গেছেন!
অর্থাৎ জঘন্য জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে দেশছাড়া করার পরও চীন, ভারত, ইসরায়েল, আমেরিকা, যুক্তরাজ্যসহ প্রায় সকল পরাশক্তিই মিয়ানমার জান্তার হয়ে সাফাই গাইছে! এ অবস্থায় চাইলেও বাংলাদেশ মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের অনুরোধ করতে পারবে না। নিজেরা মিয়ানমারকে চাপেও রাখতে পারবে না। আবার ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সরাসরি হুমকি। তারপরও মানবিক কারণে সরকারের উচিত হবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ না ভেবে শরণার্থী ভাবা, এবং তাদের আশ্রয়ের সুবন্দোবস্ত করা। এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে এখানে ভিন্ন মাত্রার খেলা হচ্ছে। সেই ‘খেলা’র ভেতরেও আরো অনেক খেলা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুরব্বিদের এ ঘৃণ্য খেলার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে, মোড়ে মোড়ে তীক্ষ্ম নজর না রাখলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বিপদ থেকে বাঁচানো দূরের কথা, নিজেরাই বিপদে পড়ে যাবে। আমরা চাই সরকার নিজেদের অবস্থান, স্বার্থ, মানবিকতা সুনিশ্চিত করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিক। তাদের মাথার ওপর নির্ভরতার হাত রাখুক।
৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

লেখক :: কলাম লেখক
monjuraul@gmail.com




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();