বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে পাট
মাজেদুল হক মানিক, মেহেরপুর
Published : Saturday, 9 September, 2017 at 11:05 AM, Update: 09.09.2017 11:08:27 AM
ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে পাট
বর্তমান বাজার দরে পাট আবাদের খরচই তোলা যাচ্ছে না। ফলে মেহেরপুরের অনেক চাষির পাট ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে যারা পাট জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়িয়েছেন তারা পানির দরে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সোনালি আঁশের সুদিন ফেরার আশায় পাট আবাদ করলেও এবার অন্য ফসল আবাদের আগ্রহের কথা জানালেন পাটচাষিরা।
এদিকে জেলার গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের চাষি আলাল উদ্দীন এক বিঘা, নাজির হোসেন আড়াই বিঘা ও শফিউর রহমান প্রায় দেড় বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেন। সংসারের জ্বালানির প্রয়োজনে ৪/৫ কাঠা জমির পাট কেটেছেন। বাকি পাট ক্ষেতে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার তিনটি উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৩০০ হেক্টর। গত বছর আবাদ হয় ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর। পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আবাদ কমেছে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে পাট
চাষিরা জানান, পাট চাষের বড় সমস্যা হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়া। গত চার বছর আগে থেকে আরো একটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তা হচ্ছে শ্রমিক সংকট। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে পাট কর্তন মৌসুমের শ্রমিক মজুরি প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। আবার সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে পাট কর্তনের পর আমন ধান রোপণ বিঘ্নিত হয়। এতে করে পাট নিয়ে এক প্রকার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
কারণ হিসেবে পাটচাষি শফিউর রহমান বলেন, চাষ, বীজ, সেচ, সার, কীটনাশক, আগাছানাশক ও শ্রমিক খরচ মিলে প্রতি বিঘা পাট চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেত থেকে পাট কেটে জাগ দেওয়া খরচ চার হাজার টাকা। পাট ছাড়ানোর পর শুকানো খরচ আরো এক হাজার টাকা। বিঘায় সর্বোচ্চ ফলন ১০ মণ। প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এতে যা আয় তা পাট কাটা-পূর্ব খরচ উঠছে। কর্তন থেকে শুকানো পর্যন্ত যে খরচ হচ্ছে তার পুরোটাই লোকসান। এ কারণে অনেক চাষি এবার পাট কাটেননি।
সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের পাটচাষি সানোয়ার হোসেন বলেন, পাটকাঠি সংসারের অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ। বিশেষ করে ক্ষেতের বেড়া ঘেরা, রান্নার চুলা জ্বালানো এবং ঘরের ছাউনিতেও কৃষকরা পাটকাঠি ব্যবহার করেন। এ কারণে অনেক চাষি পাট আবাদ করছেন।
ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে পাট
পাট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর তারা প্রতি মণ পাট কেনেন এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ভালো দরের আশায় গুদামজাত করেন। গত বছর পাট ক্রয়ের পর থেকেই দর পড়তে থাকে। এতে ব্যবসায়ীরাও লোকসানে পাট বিক্রি করেছেন। তাই এ বছর গুদামজাত করতে সাহস পাচ্ছেন না। যার ফলে স্থানীয় বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আউশ ধান চাষ লাভজনক। তাছাড়া পাট ও আউশ ধান একই মৌসুমের ফসল। পাটের দর কম হওয়ায় চাষিরা আউশ ধান আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। এ কারণে চলতি মৌসুমে এ জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();