শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর আবার শুরু হয়েছে নিপীড়ন। বাস্তুভিটা ছেড়ে তাদের আবার ছুটতে হচ্ছে আশ্রয়ের খোঁজে। হতভাগ্য এ জনগোষ্ঠীর পূর্বাপর ইতিবৃত্ত নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের চতুর্থ পর্ব আজ
রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ
মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক
Published : Saturday, 9 September, 2017 at 10:56 AM
রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ
সেই শুরু থেকেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মুখে শরণার্থী হওয়া রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য বাংলাদেশ। বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার তথ্য মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, এ যাবৎ সাড়ে ছ’লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে এদেশে।
বর্তমানে তাদের অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ এখানে অবস্থান করছে। এদের অধিকাংশেরই কোনো নিবন্ধন নেই। কক্সবাজারের বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকে তারা।
এই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে মূলত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হয়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য রয়েছে ব্যবস্থা।
গত কয়েক বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার একটি চরে পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা চলছে। প্রক্রিয়াটি কিছুদূর এগিয়েছে বলেও জানা যায়।
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া দ্বীপের ঠেঙ্গারচরে তাদের স্থানান্তরের ঘোষণা ও প্রস্তুতির কথা বেশ জোরেশোরেই শোনা যায় এ বছরের শুরুতে। অবশ্য ঠেঙ্গারচর না জালিয়ার চর- তা নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তিও।
তবে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে বেশ কিছু অধিকারবাদী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, রোহিঙ্গাদের যেখানে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা আদৌ মনুষ্য বসবাসের উপযুক্ত নয়।
তাদের কেউ কেউ আবার মনুষ্য বসতি স্থাপনের ফলে সেখানকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলছেন। এমনকি জাতিসংঘও প্রস্তাবিত স্থানে নিয়মিত বন্যার কথা উল্লেখ করে এ ধরনের স্থানান্তরকে খুবই জটিল ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছে।
রাখাইনে চলমান সহিংসতার দায় রোহিঙ্গাদের একটি জঙ্গি সংগঠনের ওপর চাপায় মায়ানমার সরকার। ওই জঙ্গি সংগঠনটিই তাদের পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়ে সংঘর্ষ বাধিয়েছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হয়। আবার আরএসএ নামের ওই জঙ্গি সংগঠন সেই হামলার দায়ও স্বীকার করে। সেনা অভিযানের মুখে আবারো হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসতে থাকে বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিলেও রোহিঙ্গা ঢল থামানো যাচ্ছে না।  
 রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন এ পরিস্থিতি বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে।
এমনিতেই রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের জন্য বাড়তি কিছু সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, বিশেষ করে, আইনশৃঙ্খলাগত সমস্যা তৈরি করেছে। বিশেষ করে, কক্সবাজারকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট বলা হয়।
তারপরও রোহিঙ্গাদের সংকট বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমনকি সর্বশেষ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য মায়ানমারকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি এখনো দেখা যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দিকেই এ মুহূর্তে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();