শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর আবার শুরু হয়েছে নিপীড়ন। বাস্তুভিটা ছেড়ে তাদের আবার ছুটতে হচ্ছে আশ্রয়ের খোঁজে। হতভাগ্য এ জনগোষ্ঠীর পূর্বাপর ইতিবৃত্ত নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্ব আজ
রোহিঙ্গা শরণার্থী : কত, কোথায়
মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক
Published : Thursday, 7 September, 2017 at 11:18 AM
রোহিঙ্গা শরণার্থী : কত, কোথায়
কত রোহিঙ্গার দেশ ছাড়তে হয়েছে, এখন কোথায় তারা?
ব্যাপক নির্যাতনের মুখে ১৯৭০ এর দশক থেকে এ যাবৎ দশ লাখের মতো রোহিঙ্গাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তাদের অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। সংখ্যাটি সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি হবে। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, থাইল্যান্ডে উল্লেখযোগ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে।  
গত মে মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১২ সালের পর থেকেই ১ লাখ ৬৮ হাজার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের হিসাব মতে, গত বছরের অক্টোবরে সহিংসতা শুরুর পর থেকে এ বছর জুলাই পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশেই অনুপ্রবেশ করেছে ৮৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। শুধু বাংলাদেশ নয়, অনেক রোহিঙ্গাই সামান্য নৌকায় করে বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর পার হয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই ঝুঁকি নিয়েছে এমন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। আর এই দফায় অগাস্টের শেষ দিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর এ যাবৎ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। মায়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল কমছে না।   
কী বলেন অং সান সুচি, মায়ানমার সরকার?
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি, যিনি এখন মায়ানমারের স্টেট চ্যান্সেলর, কার্যত দেশটির নেতা, রোহিঙ্গাদের সংকট নিয়ে কথা বলতেই রাজি নন।  
সুচি বা তার সরকারও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বা তাদের একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করেন না। উল্টো রাখাইনের সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের জন্য সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপরই দায় চাপান।
 বোঝাই যায়, সে দেশের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর ওপর সুচির নিয়ন্ত্রণ নেই। তবুও তিনি যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের একটি জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনীর নির্বিচার নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রতিবাদ তো দূরের কথা, সামান্য সমালোচনাটুকু করার সাহস দেখালেন না, সেজন্য তাকে ঘিরে এখন বিশ্বব্যাপী সমালোচনা চলছে।
মায়ানমার সরকার সবসময় রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এবছর ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে গত বছর অক্টোবরে সে দেশের সেনাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়।
সেই প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে তখন শুধু বলা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশরক্ষায় যে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সেনা অভিযান নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত তদন্তই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করে সরকার।
গত বছর এপ্রিলে বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাখাইন পরিস্থিতিকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলাটা বাড়িয়ে বলা হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না সেখানে কোনো জাতিগত নিধন চলছে। “সেখানে যা হচ্ছে, তার জন্য এই কথা বলা হলে তা অত্যুক্তি হবে”- বলেন তিনি।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে, অং সান সুচি ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিবদমান বিভক্তির সমাধানে পথ খুঁজে বের করার জন্য জাতিসংঘের সাবেক প্রধান কফি আনানের ওপর আস্থার কথা জানান। তবে সুচির এই পদক্ষেপ যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সমালোচনাকে সাময়িকভাবে ঠাণ্ডা করার জন্য ছিল, বা এ বিষয়ে যতটা সম্ভব পারা যায়, চেষ্টা করে যাচ্ছেন তা বিশ্ববাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, তা বুঝতে দেরি হয়নি কারোরই। কেননা কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনা বা অভিযোগ ধরে তদন্ত করতে দেওয়া হয়নি কফি আনানকে। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয় তাকে। এই কমিশন গঠনের সময় অং সান সুচি নিজে বলেছিলেন, কমিশনের সুপারিশগুলো তার সরকার মেনে চলবে। এই কমিশন সরকারকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা অভিযান বন্ধ করার ও তাদের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
এই সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সেটিকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সুপারিশগুলো পরিস্থিতি সাপেক্ষে সর্বোতভাবে বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণভাবে বিবেচনায়  নেওয়া হবে। এর পরেও সরকার রাখাইন রাজ্যে সাংবাদিক, সাহায্য সংস্থার কর্মীদের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে।
এই অং সান সুচির কার্যালয় থেকেই কিছুদিন আগেই হুঁশিয়ার করা হয়েছে যারা রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে আসবে তাদেরও সন্ত্রাসী গণ্য করা হবে।
এ বছরের জানুয়ারি ইয়াঙ্ঘি লি নামে মায়ানমারে জাতিসংঘের এক মানবাধিকার দূত বলেন, তাকে রাখাইনের বেশ কয়েকটি চিহ্নিত অঞ্চলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আর কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে শুধু সরকারের ঠিক করে রাখা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে।
প্রসঙ্গত, দেশটিতে এর আগেও অনেকবারই জাতিসংঘকে সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনা তদন্ত করতে দেওয়া হয়নি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();