বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
মুছা ও কালু এখনো পলাতক
মিতু হত্যাকাণ্ড : চার্জশিট কবে কেউ জানে না
Published : Monday, 17 July, 2017 at 11:05 AM
মিতু হত্যাকাণ্ড : চার্জশিট কবে কেউ জানে না
কাজী ফয়সাল

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারে প্রশ্ন- হত্যাকারীরা কবে গ্রেপ্তার হবে? কবে এই মামলার চার্জশিট দাখিল হবে? এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হওয়ায় এমন প্রশ্ন কেবল ওই পরিবারের নয়, অনেক সাধারণ মানুষেরও মনে জেগে উঠছে। উত্তর সন্ধানের চেষ্টা করলেও হতাশ হতে হয়! খোদ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও ধারণা দিতে পারছেন না মামলা তদন্তে তারা কতটুকু অগ্রসর হয়েছেন। চার্জশিট দাখিল করতে আর কয় মাস বা কয় বছর সময় লাগতে পারে। অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে বক্তব্য পাওয়া যায় ‘শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে’ বা ‘তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে’। কিন্তু এই মামলাটিতে এমন ধরনের কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। মামলার বাদী বাবুল আক্তারও দ্রুত বিচার চান বলে খোলা কাগজকে জানিয়েছেন। তবে তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলছেন, এটি বাবুল আক্তারের অভিনয়। মিতু হত্যার বিচার চাওয়ার ব্যাপারে বাবুলের অনাগ্রহ রয়েছে।
মামলার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. কামরুজ্জামান খোলা কাগজকে বলেন, তদন্তে এখন নতুন কোনো আপডেট নেই। তদন্ত কাজ চলছে। মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করার জন্য গত ১১ জুলাই বাদীকে ডেকেছিলাম। হত্যার বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাইনি। তদন্তকাজ সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে ধারণা চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, যেই মামলাটি তদন্তাধীন সেই বিষয়ে কোনো সময় বলা যাচ্ছে না। কবে এটি শেষ হবে তাও বলতে পারছি না। আনুমানিক সময়ের কোনো টাইমফ্রেমও নেই আমাদের কাছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমরা বলতে পারছি না কবে চার্জশিট দিতে পারবো।
এডিসি কামরুজ্জামান খোলা কাগজকে আরো বলেন, আসামি মুছাকে গ্রেপ্তার করা গেলে এ খুনের রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করছি। তাই মুছাকে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে। আরেক আসামি কালুকেও আমরা খুঁজছি।
এ বিষয়ে সাবেক এসপি বাবুল আক্তার খোলা কাগজকে বলেন, তদন্তকারী অগ্রসরের বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি, সেই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। আমি অবশ্যই চাই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ হোক। গত ১১ জুলাই তদন্তকারীরা বিভিন্ন বিষয় আমার কাছে জানতে চেয়েছেন। আমিও তাদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছি। আমি নিজ আগ্রহে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম।
সন্তান দুটোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল আক্তার বলেন, তারা দুজনেই ভালো আছে, সামনে তাদের পরীক্ষা। তাদের জন্য দোয়া চাই। তারা যেন মা হারানোর কষ্ট ভুলে থাকতে পারে।
মামলার তদন্তে কালক্ষেপণ ও আসামিদের খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ এনে বাবুল আক্তারের শ্বশুর সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, বাবুল স্বামী হিসেবে তো দায়িত্ব পালন করেনি, এখন মামলার বাদী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে না। আমি সরাসরি বলতে চাই- সে এই খুনে জড়িত। এ জন্যই তার কোনো আন্তরিকতাও নেই। আমার মেয়ে মিতু হত্যায় সে জড়িত থাকলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই সে খুনের বিচার চায় না। এর মানে সেই খুন করছে। পুলিশও এ বিষয়ে আন্তরিক না। আমরা যা বলছি তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। আমরা মামলা তদন্তে বিষয়ে মোটেও খুশি না। খুনের মোটিভটা পুলিশ এখনো বের করতে পারেনি। অথচ মোটিভের বিষয়ে আমরা তথ্য দিয়েছি- বাবুল আক্তারের পরকীয়া। তার (বাবুলের) বডিগার্ড, বন্ধু-বান্ধব এবং তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা সেটিও করেনি। আসামি কালু ও মুছা গ্রেপ্তার নেই। দুই নারীর সঙ্গে বাবুলের অবৈধ সম্পর্ক এটিই হত্যার মূল মোটিভ। তাদের মধ্যে এক নারী রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি এনজিওতে চাকরি করে। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক, তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আওতাধীন কক্সবাজার অফিসে চাকরি করতো। জানতে পেরেছি ওই নারী কিছুদিন আগে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গেছে। এমনটি হলে হত্যার তদন্ত অগ্রসর নয় বরং আরো পিছিয়ে যাবে!
অভিযোগ করে মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারের ঘন ঘন চট্টগ্রামে যাওয়া উচিত, তদবির করা উচিত, খোঁজখবর নেওয়া উচিত। অথচ মিতু খুন হওয়ার পর সে এখন পর্যন্ত ২ থেকে ৩ বার চট্টগ্রামে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। আমরা বাদী না হলেও ২/৩ বার গিয়েছি এ বিষয়ে কথা বলতে। এছাড়াও আমরা ফোনে কথা বলে খোঁজখবর নিচ্ছি।
মামলা তদন্তের স্বার্থে ভুক্তভোগী পরিবার হিসেবে আমরা যেসব পয়েন্ট পুলিশকে দিয়েছিলাম ওইসবের ওপর তারা কাজ করছে না। তার (বাবুলের) একাধিক পরকীয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছি। অথচ সেই বিষয়ে পুলিশকে কাজ করতে দেখিনি। তাকে সেইভাবে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে না। পরকীয়া সম্পৃক্ত দুই নারীর ছবি আমরা দিয়েছিলাম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২০ থেকে ২৫টি পয়েন্ট দিয়েছিলাম হত্যার ক্লু হিসেবে। কিন্তু সেসব পুলিশ আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হত্যার শিকার মাহমুদা খানম মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।
তিনি আরো বলেন, বাবুল আক্তার নাতি আক্তার মাহমুদ মাহিন এবং নাতনী তাবাসুম তাজনীন টাপুরকে আমার বাসায় আসতে দিচ্ছে না। আমরা কল দিলেও সে (বাবুল) ফোন রিসিভ করে না।
গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে বাবুল আক্তারকেও একটা সময়ে ডিবি অফিসে ১৫ ঘণ্টা আটকা থাকতে হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবুল আক্তার বর্তমানে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা ছাড়াও পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছিল।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();