সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
ডিম ফোটানোর মেশিন বানালেন রাশেদ
আব্দুর রহিম, বগুড়া
Published : Sunday, 16 July, 2017 at 10:54 AM
ডিম ফোটানোর মেশিন বানালেন রাশেদ
বগুড়ার গাবতলী পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের মৃত শফিউদ্দিন সরকার ফটু প্রামাণিকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। তার বাড়িতে ১৪ বছর আগে একটি মুরগি বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিমে তা দিচ্ছিল। কয়েকদিন পর হঠাৎ এক রাতে ওই মুরগিটি শিয়ালে ধরে নিয়ে যায়। তখন ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ফোটানোর আশা প্রায় ফুরিয়ে যায়। এর পরদিন সকালে রাশেদ একটি ডিম ভেঙে দেখতে পেলেন ভেতরে বাচ্চা নড়ছে। তখন তিনি বুঝতে পারলেন সবগুলো ডিমে বাচ্চা রয়েছে এবং তা ফোটানো সম্ভব হবে। তখন রাসেল বৈদ্যুতিক বাল্বের দ্বারা কার্টনের মধ্যে ডিমগুলোকে তা দেন। প্রায় সাতদিন পর সব ডিম থেকে ধীরে ধীরে বাচ্চা বের হয়।
রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, সে সময় থেকে মাথায় চিন্তা ঢুকে যায় কীভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিজিটাল মেশিন তৈরি করা যায়। এরপর আমি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এ ছাড়াও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন মুরগি পালন খামার ও হ্যাচারি দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার খামার পরিদর্শন করি। প্রথমে রাজশাহী থেকে ফিট পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি খামারে একটি বাচ্চা ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন তৈরি করতে সক্ষম হই। তখন থেকে মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন তৈরির বিষয়টির ওপর দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সেখান থেকেই আমি দেশের বিভিন্ন জেলায় মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন স্থাপন করে চলেছি। এরই মধ্যে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার সোনামুখী নামক স্থানে মেসার্স মাহিন পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারিতে আমার তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মেশিন স্থাপন করেছি। এই মেশিন থেকে মাসে ৬৮ হাজার বাচ্চা বের হবে।
জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার মেসার্স মাহিন অ্যান্ড পোল্ট্রি ও হ্যাচারির মালিক গোলাম মোস্তফা বিদ্যুতের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী নামক স্থানে এক একর ৮৪ শতক নিজস্ব জমির ওপর ২০ বছর যাবৎ মেসার্স মাহিন চালকল স্থাপন করেন। এর পাশাপশি গত পাঁচ বছর আগে থেকে পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি চাষ করছেন। তিনি গত তিন মাস আগে গাবতলীর বৈজ্ঞানিক রাশেদের কাছ থেকে ডিম ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন তৈরি করে তার হ্যাচারিতে স্থাপন করেন। এ মেশিন বসাতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আমার পোল্ট্রি খামারে নিজস্ব উৎপাদিত ডিম পাড়ার মুরগি রয়েছে এবং আমি নিজেই মুরগির খাদ্য তৈরি করি। মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি পেলে বেশি লাভ হয়। তবে ডাল সিজনে মুরগির ডিমের দাম ১১-১২ টাকা এবং বাচ্চা ফোটানো ডিমের দাম আট টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়াও ভরা মৌসুমে ৩০-৩১ টাকা দরে বাচ্চা বিক্রি হয়। তাতে আমাদের লাভের পরিমাণ বেশি হয়। আমার মেশিন থেকে মাসে দুবার ৬৮ হাজার বাচ্চা ফোটানো যায়। এতে হাজারে মৃত্যুর হার ৪-৫টি বাচ্চা। এই ডিজিটাল মেশিন থেকে মাসে বাচ্চা ও ডিম বিক্রি করে আয় হচ্ছে ৮-১০ লাখ টাকা। রাশেদের এ ডিজিটাল মেশিন ক্রয় করে আমি লাভবান হয়েছি। এ ছাড়াও আমার চাতাল ব্যবসা রয়েছে। জয়পুর জেলায় পোল্ট্রি খামার মালিকদের সমিতি রয়েছে। তারাই মুরগির ডিম ও বাচ্চার বাজারদর নির্ধারণ করে দেয়। এই মেশিন ব্যবহার করতে হলে উন্নতমানের জেনারেটর থাকতে হবে। এই মেশিনে ডিম ফোটানোর ধারণ ক্ষমতা যত বেশি বলে দেবে, তত বেশি ডিম ফোটানোর মেশিন তৈরি করা সম্ভব হবে। এক লাখ ৩০ হাজার ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিজিটাল মেশিন তৈরি করতে ব্যয় হবে মাত্র ১৫ লাখ টাকা। এই মেশিন থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বের করার পর হাজারে মৃত্যুর হার মাত্র ৪-৫টি। এনালগ মেশিনে বাচ্চা ফোটানোর সময় মৃত্যুর হার বেড়ে দাঁড়ায় হাজারে ৩০-৪০টা। তবে রাশেদের এই বাচ্চা ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন তৈরির বিষয়টি পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের আড়োলন সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার মোল্লা হ্যাচারি ও একই জেলার স্টার হ্যাচারি অ্যান্ড পোল্ট্রি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তৌফিক পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, গোদাগাড়ী উপজেলার তৌহিদ হ্যাচারি অ্যান্ড পোল্ট্রি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের তৌফিক হ্যাচারি অ্যান্ড পোল্ট্রি, নরসিংদী জেলার অরকো পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারিতে তার তৈরি মেশিনে মাসে এক লাখ ৩০ হাজার বাচ্চা বের হয়। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন জেলায় এই বাচ্চা ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে।
ক্ষুদে বৈজ্ঞানিক রাশেদ বলেন, আগামীতে যদি আমি সরকারি কোনো ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতা পাই তাহলে একটি আধুনিক মুরগির বাচ্চা ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন তৈরির জন্য কোম্পানি স্থাপন করবো। এছাড়াও দেশে যত হ্যাচারি ও খামারি প্রকল্প রয়েছে তাদের সুবিধার্থে হ্যাচারি ও খামারি মালিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ দেশে ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();