বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭
সহায়ক সরকারের প্রস্তাব মানবে না আওয়ামী লীগ
Published : Saturday, 15 July, 2017 at 11:32 AM
সহায়ক সরকারের প্রস্তাব মানবে না আওয়ামী লীগ
আব্দুল্লাহ মুয়াজ

আগামী জাতীয় নির্বাচন যতই কাছে আসছে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। বিশেষ করে বড় দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি এখন ব্যস্ততার মূল লক্ষ্য নির্বাচনে জয়ী হওয়া। এখন থেকে সরকারি কর্মকাণ্ডে খবরদারি বাড়াতে চায় বিএনপি। কিন্তু তাদের কোনো আবদারে পাত্তা দেবেন না ক্ষমসতাসীনরা। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার সহায়ক হয়ে সেই খবরদারি শুরু করতে চায় বিএনপি। কিন্তু সংবিধানে এমন কোনো বিধান না থাকায় তাদের সেই আবদার কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের অন্য নেতাদেরও একই কথা। সংবিধানের বাইরে কোনো পদ্ধতিসংক্রান্ত কারো আবদার রক্ষা করা হবে না।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন করতে সব ধরনের সহযোগিতা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে অবশ্যই প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ হবে। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রার্থী নির্বাচন, প্রচারণা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরাসহ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ নির্বাচনে সংবিধানের বাইরে কোনো দলের কোনো আবদার সরকার রক্ষা করবে না বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা বিএনপি প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে। ওই সরকারে বিএনপির প্রতিনিধি রাখার ব্যাপারে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রায় দুই মাস সেখানে অবস্থান করবেন বলে দলটির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এই সময়ে তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতির ব্যাপারে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন পরিকল্পনাও করবেন। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন।
জানা যায়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখার কাজ শেষ হয়েছে। দল-সমর্থিত বুদ্ধিজীবীরা কিছুদিন ধরেই এ নিয়ে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সহায়ক সরকার প্রস্তাবনায় কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে আসার পর এটি প্রকাশ করা হবে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি রূপরেখা দিয়েছিলাম। একইভাবে আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দেবেন। এ নিয়ে কাজ চলছে। সময়মতো এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
এদিকে সংবিধানে এমন সহায়ক সরকারের কোনো বিধান নেই বলে বিএনপির আবদার পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলেছেন, বিএনপি ধরেই নিয়েছে তারা আগামীতে ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার নয়। তারা ক্ষমতায় যাবে ভেবেই নির্বাচনকালীন সরকারে থেকে ক্ষমতার কিছুটা স্বাদ পেতে চায়। কিন্তু সংবিধান তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে সরকারের কিছু করার নেই।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খোলা কাগজকে বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দেখেছি, বিএনপিও প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু তারা যে সহায়ক সরকারের কথা বলছে, এটার ব্যাপারে সংবিধানে কিছু বলা নেই। আমরা সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবো না। তিনি বলেন, সরকার যে ট্রেন্ডটা চালু করছে, এটা বিএনপিরও মেনে নেওয়া উচিত। কারণ তারা যদি কখনো ক্ষমতায় যায়, তাহলে তাদের জন্য এটি কাজে দেবে। তখন যদি কেউ সহায়ক সরকারের কথা বলে তাহলে তারাও সংবিধান দেখাতে পারবে। সুতরাং বর্তমান সরকারের অধীনেই যে নির্বাচন হবে সেখানে বিএনপির অংশ নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তাদের নির্বাচনে আসার ব্যাপারে বলেছি কিন্তু কোনো সংলাপের ব্যাপারে বলিনি। গত নির্বাচনের আগে সংলাপের জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফোন করেছিলেন, কিন্তু বিনিময়ে গালি পেয়েছিলেন। সুতরাং নির্বাচনে আসার ব্যাপারে যতটুকু আহ্বান জানানোর তা জানানো হয়েছে। এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।   
এদিকে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি এবং সাংগঠনিক যে কোনো বিষয়ে সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে আলাপ করে প্রধানমন্ত্রী স্বস্তি বোধ করেন। কারণ বেশকিছু খারাপ পরিস্থিতি থেকে সৈয়দ আশরাফই দল এবং সরকারকে টেনে তুলেছিলেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দলের ত্যাগী ও দুস্থ নেতাকর্মীর তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠাতে দলের পক্ষ থেকে তৃণমূলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুর্দিনে নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে এ মাসের নির্দেশনা দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এই উদ্যোগ দলকে উজ্জীবিত করবে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। চাওয়া-পাওয়ার তোয়াক্কা না করেই চরম প্রতিকূল পরিবেশে দলের জন্য নিজের অর্থ-শ্রম-ভালোবাসা দিয়ে কাজ করেছেন আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী। যাদের অনেকেই এখন জীবনের শেষ প্রান্তে। কেউ অসুস্থ কেউবা আছেন অর্থকষ্টে। অনেকে আবার নানা অভিমানে নিভৃতচারী। দুর্দিনে নিবেদিতপ্রাণ প্রবীণ নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে মূল্যায়নের জন্য নাম-ঠিকানা চেয়ে দলের জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
দলের নেতারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সব সময়ই অসুস্থ বা দুস্থ নেতাকর্মীদের সাহায্য করেন। এবার সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে বড় পরিসরে তা করার চিন্তা হচ্ছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতারা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();